রায়ের অপেক্ষায় থাকা মামলার নথি চুরি, ফেরত দিতে চাঁদা দাবি: ডিবির জালে আটক ৪

 
আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরির ঘটনায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের প্রেস ব্রিফিং

স্টাফ রিপোর্টার: রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি চুরি এবং তা ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে চাঁদা দাবির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় আদালতের উমেদার, মুহুরী ও দুই কর্মচারীসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র।

শনিবার ( ২৩ মে) দুপুর ১টার দিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, গত ২১ মে ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় নওগাঁর সম্মানিত জেলা ও দায়রা জজ মহোদয় বিষয়টি নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে অবহিত করেন। তিনি জানান, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২, নওগাঁ থেকে রায়ের অপেক্ষায় থাকা দায়রা মামলা নম্বর ৯০৪/২০২২-এর গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি হয়ে গেছে। মামলাটির রায় ঘোষণার কথা ছিল খুব শিগগিরই।

এদিকে নথি চুরির পর একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে আদালতের এক কর্মচারীর কাছে ফোন করে নথি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দ্রুত চোর শনাক্ত, গ্রেফতার এবং মামলার নথি উদ্ধারের বিশেষ নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনায় ডিবির একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার গভীর অনুসন্ধান চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করে।

পরে রাজশাহীর বাগমারা ও নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছী ইউনিয়নের সিংবাচা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এস এম আকাশ (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নওগাঁ জেলার সিংবাচা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

গ্রেফতারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ তার বাড়ির আঙিনায় খড়ের পালার ভেতর লুকিয়ে রাখা মামলার নথিপত্র জনসম্মুখে বের করে দেয়।

আকাশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর ও আদমদীঘি এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন—

  • যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর পিয়ন পলাশ,
  • সাপাহার সাব-জজ আদালতের পিয়ন আরিফ,
  • এবং আদালতের মুহুরী সবুজ (৪০)।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত এস এম আকাশ আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করেছেন।

পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় আর কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে মামলার নথি চুরি করা হয়েছিল—তা উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال