এআই খেলনার বিতর্ক: নিরাপত্তা উন্নয়নে নতুন প্রতিশ্রুতি, কিন্তু উদ্বেগ কমেনি


বিটিবি নিউজ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত খেলনা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে খেলনা নির্মাতারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স শো (সিইএস) ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলো শিশুদের গোপনীয়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের অঙ্গীকার করেছেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও অনেক ঝুঁকি অমীমাংসিত রয়েছে।

গত বছরের নভেম্বরে প্রকাশিত ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট রিসার্চ গ্রুপ’ (পিআইআরজি)-এর ‘ট্রাবল ইন টয়ল্যান্ড ২০২৫’ প্রতিবেদনে এআই খেলনার ভয়াবহ দিকগুলো উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু এআই খেলনা শিশুদের সাথে অনুপযুক্ত কথোপকথন করে, যেমন যৌনতা-সংক্রান্ত পরামর্শ দেয় বা ছুরি, আগুন জ্বালানোর মতো বিপজ্জনক উপায় বাতলে দেয়। চারটি এআই খেলনা পরীক্ষা করে পিআইআরজি দেখেছে যে, সিঙ্গাপুরের স্টার্টআপ ‘ফোলোটয়’-এর ‘কুম্মা বিয়ার’ শিশুদের যৌনসঙ্গী বিষয়ক অদ্ভুত পরামর্শ দিয়েছে, যা প্রকাশের পর কোম্পানিটি বিক্রি স্থগিত করতে বাধ্য হয়। ফোলোটয়-এর সিইও ওয়াং লে বলেছেন, তারা এখন ওপেনএআই-এর উন্নত সংস্করণ ব্যবহার করছেন এবং অনুপযুক্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে ‘কিউরিও’ কোম্পানির ‘গ্রক’ খেলনা, যা পাঁচ বছরের শিশুর কোনো অনুপযুক্ত প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। এই চার পায়ের রকেট-আকৃতির খেলনাটি ২০২৪ সাল থেকে বাজারে রয়েছে এবং অভিভাবকদের অ্যালগরিদমে হস্তক্ষেপ করার সুবিধা দেয়। এটি ‘কিডসেফ’ সনদও পেয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি সর্বদা আশপাশের কথা শোনে, যা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ায়। কিউরিও জানিয়েছে, তারা পিআইআরজি-এর অভিযোগগুলো সমাধানে কাজ করছে, যার মধ্যে ওপেনএআই এবং পারপ্লেক্সিটির সাথে তথ্য শেয়ারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত।

সিইএস ২০২৬-এ নতুন উন্নয়ন দেখা গেছে। তুরস্কের ‘এলেভস’ কোম্পানির ‘সানি’ খেলনা শিশুদের ভাষা শেখাতে সাহায্য করে, যেখানে কথা বলার সময়সীমা নির্দিষ্ট করে বিভ্রান্তিকর উত্তর এড়ানো হয়েছে। ‘অলি’ কোম্পানি তাদের খেলনায় প্রোগ্রাম যুক্ত করেছে যাতে শিশু অনুপযুক্ত শব্দ ব্যবহার করলে অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়। ক্যালিফর্নিয়ায় এআই চ্যাটবট-যুক্ত খেলনার বিক্রিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে নিরাপত্তা নির্দেশিকা তৈরির সময় পাওয়া যায়।

এক্স (পূর্বের টুইটার)-এ এই বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। মেডিকেল ফিউচারিস্ট বার্সি মেস্কো বলেছেন, এআই খেলনা শিশুদের সাথে সংবেদনশীল বিষয়ে কথা বলতে পারে, যা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত এআই-এর মতো ঝুঁকিপূর্ণ। জোনাথন হাইট সতর্ক করে বলেছেন, এআই সঙ্গী শিশুদের আসল সম্পর্ক থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে এবং মানসিক ক্ষতি করতে পারে। একটি পোস্টে বলা হয়েছে, চীনের এআই খেলনা শিশুদের বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহ করে, যা নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

পিআইআরজি-এর ররি আরলিচ বলেন, “যেসব খেলনা শিশুর তথ্য সংরক্ষণ করে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলে, সেগুলো বিশেষ উদ্বেগের।” টেম্পল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ক্যাথি হার্শ-পাসেক বলেন, “আমরা কেন এই খেলনাগুলোর ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছি না? প্রযুক্তির বিরোধী নই, কিন্তু নিরাপত্তা ছাড়া শিশুদের হাতে দেওয়া অন্যায়।”

যদিও এআই খেলনাকে গৃহশিক্ষক হিসেবে দেখার সম্ভাবনা আছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিভাবকদের সতর্ক থাকা উচিত। ২০৩০ সালের মধ্যে এই শিল্প ২৫ বিলিয়ন ডলারের হতে পারে, কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে অগ্রসর হলে আরও বিতর্কের জন্ম হতে পারে। তথ্যসূত্রঃ বাসস

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال