ধর্মের নামে ব্যবসা: সমাজে বাড়ছে উদ্বেগ



মুফতি মাহমুদুল হাসান ওরফে মিলন

 পর্ব ০২

মুফতি মিলনের কাণ্ড

ধর্মের নামে ব্যবসা: সমাজে বাড়ছে উদ্বেগ

বিটিবি নিউজ রিপোর্ট: সমাজের মানুষ চাল-ডাল, কাপড়, রড, সিমেন্ট, ফল, মিষ্টি-দই কিংবা জমিসহ কতো কিছু নিয়ে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন কেউ কেউ মানুষের ধর্মীয় আবেগ, ঈমান, আর বিশ্বাস নিয়েও নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে—যা সমাজে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্মের ব্যবসা নামে কেউ দোকান খুলে না, দৃশ্যমান সাইনবোর্ডও  দেয় না। কিন্তু ব্যবসা চলে খুব জমজমাট। আড়ালে-আবডালে তাদের কার্যক্রম বেশ সক্রিয় ও লাভজনক বলেই অনেকে মনে করেন। তারা ধর্মীয় ভাষা, পরিভাষা ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। অথচ তাদের অনেক কাজই ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা, সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সমাজে নতুন এক শ্রেণির মানুষের আবির্ভাব হয়েছে—যাদের অনেকেই ব্যঙ্গ করে “ধর্মব্যবসায়ী” বলে ডাকে। এদের কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কেউ সরাসরি সমালোচনা করেন, আবার কেউ নীরব থাকেন। এরা ধর্মের কথা বলে, ধর্মের ভাষা ব্যবহার করে, কিন্তু তাদের কাজকর্ম অনেক সময় ধর্মের প্রকৃত শিক্ষার সঙ্গে মেলে না। এমন চরিত্রের সাথে মুফতি মাহমুদুল হাসান ওরফে মিলনের চরিত্রের মিল থাকতে পারে বলেও অনেকেই মনে করেন এবং আড়ালে তাকে কেউ কেউ  ব্যাঙ্গ করে ধর্ম ব্যবসায়ী বলেও ডেকে থাকেন।

একটি সূত্রে জানা গেছে, তিনি ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং এর মাধ্যমে নিজের প্রভাব ও সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

নামী-দামী প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে ডিগ্রি অর্জন করে নামের আগে মুফতি লাগিয়ে সমাজে প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানে তার একসময় ব্যাপক আগ্রহ ছিল। বর্তমানে অভিজ্ঞতা না থাকলেও নানা লোভে পড়ে মফুতির লেভেল লাগিয়ে বহুরূপী ব্যবসার স্বপ্নে গা ভাসাচ্ছে। কখনও হজ্ব না করেই অন্যের নিবন্ধনকৃত প্রাইম হজ্ব গ্রুপ, জান্নাতুল মাওয়া ট্রাভেলস, ফারুক ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস, মেসার্স শাফায়েত ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সাইনবোর্ড নিজ এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে সাইনবোড ঝুলিয়ে এবং ভিজিটিং কার্ড বানিয়ে নিজেকে হজ্ব ডিরেক্টর শীপ দাবি করে দেদাচ্ছে কাজ করে যাচ্ছে । 

সেই সাথে হুমাইদাহ ট্রাভেলস নামের একটি সোসাল মিডিয়ায় নানা রকম চটকদারী ও বাহারী ঢঙের লোভনীয় ও আকর্ষনীয় বেতনের অফার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর কাজে আদমব্যাপারী হিসেবে কাজ করতে মাহমুদুল হাসান ওরফে মিলন নিজেকে আত্ননিয়োগ করেছে বলেও জানা গেছে। তাছাড়া তিনি সেখানে চালেরও ব্যবসা করছে। 

সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষদের মাঝে নানা কায়দা কৌশলে মিশে তাদের মধ্যে ধর্মীয় কোন কথা উঠলেই তাদের মাঝে কুরআন হাদীছের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে  ধর্মের কথা বলে, মানুষকে ভয় দেখায়, আবেগে ভাসায়। আর সেই সুযোগে সাধারণ মানুষদের আবেগকে এমনভাবে কাজে লাগায় মনে হয় তারা কেই তার মতো করে কুরআন হাদীছের কিছুই বোঝে না এমন ভাব দেখিয়ে তাদের বলদ বানায়।  তারপর ধীরে ধীরে নিজের প্রভাব আর সুবিধার পাহাড় গড়ে তোলে। মানুষ ভাবে—ধর্মের কাজই করছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো: ধর্ম কি কখনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করার জিনিস? ধর্ম মানুষকে সত্য, ন্যায় আর সততার শিক্ষা দেয়।

কিন্তু যখন কেউ ধর্মের নাম মুখে রেখে নিজের স্বার্থের হিসাব করে, তখন সেটি ধর্মের সেবা নয়—এটি ভণ্ডামি। সমাজে আজ অনেকেই ব্যঙ্গ করে বলেন, “ধর্ম শেখানোর আগে কিছু মানুষ যেন নিজেরাই ধর্মটা একটু শিখে আসে।”

সাম্প্রতি মুফতি মিলন ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে নিজের প্রভাব বিস্তার, অর্থ সংগ্রহ কিংবা সামাজিক অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি নিজেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মান্দা উপজেলার সভাপতি ও সেক্রেটারি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ মান্দা নওগাঁ হিসেবে দাবি করেন। তিনি মান্দা উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হলেও ওই দুই কমিটির মোট ৫০ জন সদস্য এবং ইউনিয়ন পর্যায়েও অনেক সদস্য রয়েছে বলে  তার দাবী। দুই কমিটিতে অনেক লোকের কথা বললেও বাস্তবে তার সঙ্গে তাদের একত্র করে বিভিন্ন কর্মসূচীগুলো তাদের বড় কোন জমায়েত বিটিবি নিউজের চোখে পড়েনি। তিনি বেশিরভাগ সময়ে গত জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে বিভিন্ন সভায় যুক্ত থেকে নিজেকে জাহির করেছে এবং ভোটের দিন স্থানীয় ভোট কেন্দ্রে জামায়াতকে বড় শক্তি মনে করে নিজেকে প্রভাব খাটিয়ে ও জাহির করে বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের নানাভাবে নানা শ্রেণি পেশার মানুষদের বিষিয়ে তুলেছে বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে। তাছাড়া স্থানীয়ভাবে মুফতি মিলনের সঙ্গে ৫/১০ দলীয় লোক আছে বলেও বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানে জানা যায়নি। আবার মিলনের দলীয় বড় বড় পদ কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে উপজেলার কোথাও দলীয় অফিস/কার্যালয় আছে বলে বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানে দেখা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুফতি মাহমুদুল হাসান ওরফে মিলনের সঙ্গে সিংগীহাট মৎস্যজীবি পাড়ার মৌলভী ইসরাফিল আলম, ইলশাগাড়ী এলাকার মৌলভী এইচ এম মনিরুল ইসলাম ওরফে মনির, কনাইপাড়া এলাকার মৌলভী হাফিজুর, বাঙ্গালপাড়ার মৌলভী আব্দুল বারি, মৈনম এলাকার মৌলভী আজিজুল, নুরুল্লাবাদ এলাকার মৌলভী নজরুল ইসলাম, কলেজ মোড়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার মৌলভী আমিনুল ইসলাম, গোটগাড়ী এলাকার মৌভলী আবদুল মজিদ, নিজকুলিহার এলাকার মৌলভী মাহফুজ খান, মৌলভী নাঈমসহ আরো কয়েকজন তার অনুসারী/ভক্ত বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। তারা সবাই তার দলের সাথে সম্পৃক্ত নয় বলেও জানা গেছে। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ নারী কেলেঙ্কারি বা গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকা এবং এর দায়ে হাজত বাস করেছে বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে। অনুসারীদের অনেকের আচরণ ও কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়, তারা যেন একই ছাঁচে তৈরি—একই ফ্রেমের প্রোডাকশন।

উপজেলার পরিচিত অনেক আলেম ও উলামাদের মধ্যে মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মুফতি রিয়াজুল কাসেমীসহ কয়েকজন বিগত সময়ে মিলনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছিলেন। মিলনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং একগুয়েমীর কারণে তারা ধীরে ধীরে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলেও একটি সূ্ত্রে জানা গেছে।

গত ১২ জানুয়ারি তার বাড়ি/মাদ্রাসার নিকটে নিরদলীয়ভাবে স্থানীয় কুলিহার সরকারী প্রা: বি: মাঠে একটি তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন করলে তা বন্ধের জন্য মুফতি মিলন অন্য এলাকার ক’জন মুরিদ/ভক্তদের নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ করে। তাছাড়া উপজেলার সতিহাট এর নিকটবর্তী মীরপুরেও বিগত সময়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে সেখানেও একই কায়দায় বাধা প্রদানসহ বন্ধের যাবতীয় ব্যবস্থায় মেতে উঠে। আশে-পাশের এলাকায় তার পছন্দের/অনুসারী আলেমদের সম্পৃক্ত না করা হলে তিনি তার গ্রুপ নিয়ে তা বন্ধের জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠে। যাতে করে স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের  নিকট তিনি চরমভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। 

জানা গেছে, মুফতি মিলন ব্যক্তিগত মহিলা মাদ্রাসার নামে, প্রশাসনের অসৎ ব্যক্তিদের নানা কায়দায় ম্যানেজ করে গত কয়েক বছর ধরে সরকারি দপ্তর থেকে নিয়মিত বরাদ্দও নিয়েছে। এমনকি ‎চলতি মাসের শুরু দিকে ৪/৫জন এতিম দেখিয়ে ৭৫০ কেজি চাল বরাদ্দ পাশ করে নেওয়ার পর তা স্থগিত এবং এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। আবার ওই বরাদ্দকৃত চাল পুনরায় নেওয়ার জন্য স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের চেষ্টায় আছে।

আরও জানা গেছে, ইফতার ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজনের নামে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের দাওয়াত দেয় মুফতি মিলন। সরল বিশ্বাসে স্থানীয় নেতাকর্মী ও দাওয়াতি ব্যক্তিরা ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।

অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠানে আপ্যায়নের পর একপর্যায়ে বিভিন্ন আলোচনার মাঝে কৌশলে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বললে তারা বিটিবি নিউজকে জানান, “ইফতার ও মিলাদ মাহফিলের কথা বলে আমাদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই আমরা সেখানে যাই। কিন্তু পরে বুঝতে পারি, ভিন্ন উদ্দেশ্যে আমাদের উপস্থিতি ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা আগে থেকে কিছুই জানতাম না।” তারা আরও বলেন, “এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত নই।”

অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা মুফতি মাহমুদুল হাসান ওরফে মিলন ৪/৫ বছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে জমি ক্রয়, মহিলা মাদ্রাসা নির্মাণ ও গরুর খামার চালু করেছে।  ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে স্থানীয়, আঞ্চলিক ও  বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে মোটা অংকের দান-অনুদান সংগ্রহ, চালের ব্যবসা, হজ্ব না করেও হজ্ব কার্যক্রম পরিচালনা এবং আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে লোভনীয় বেতনের প্রলোভনে কর্মী পাঠানো—এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

জনমনে প্রশ্ন উঠছে—এতো দ্রুত সময়ে এতোকিছু করা কীভাবে সম্ভব হলো? তার কর্মকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? এই প্রশ্নই সকলকে সচেতন থাকার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরদার করছে। একজন আলেম বা মুফতির দায়িত্ব শুধু নিজের জন্য নয়, তার শিক্ষার্থী, অনুসারী ও সমাজের জন্যও। যদি দ্বীনের নাম ব্যবহার করে স্বার্থসিদ্ধি করা হয়, তা অনুসারীদের বিভ্রান্ত করে এবং সমাজে ভুল বার্তা ছড়িয়ে দেয়। অন্ধ আনুগত্য বা অবিবেচিত অনুসরণ সমাজের জন্য বিপজ্জনক। ধর্ম কখনো ব্যবসা নয়—ধর্ম মানুষের নৈতিক শক্তি, তাকওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ।

নিজ এলাকায় কুলিহার মোড়ে মুফতি মিলন মোটা অংকের জামানতে মাসিক ভাড়ার মাধ্যমে যৌথভাবে অন্য পার্টনারের সঙ্গে একটি ঘর ভাড়া নিয়েছে। সেখানে তিনি হজ্ব কার্যক্রম, বিদেশে কর্মী পাঠানো, চালসহ বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করছে। ঘরের জামানতের পুরো টাকা কৌশলে অন্য পাটনারের কাছে নিয়ে ঘরের মালিককে দেওয়া হয়েছে। ওই পাটনারও একই জায়গায় বিকাশ ও চালের ব্যবসা চালাচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে—এ ধরনের কার্যক্রম কতটা স্বচ্ছ ও আইনসম্মত, তা নিয়েও সতর্কতার আহ্বান তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক সময় নিজ এলাকার শিক্ষানুরাগী, প্রতিবেশী ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব—যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মনছুর মাষ্টার, ইসমাইল মাষ্টারসহ, রিয়াজ, ফয়েজ, বাবুল হোসেন, মাওলানা আতোয়ার, হাফেজ আব্দুল মান্নান, আবুল কালাম আজাদ, ওয়ারেছ, বায়েজিদ, কায়েশ, মিঠু, আব্দুল মান্নান, তোতা, মাহমুদুলসহ সমাজসেবীরা ছিলেন—মিলনের শিক্ষা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছিল। যারা সহযোগিতা করেছিল তাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুবরণও করেছে। সাম্প্রতিক বিতর্কিত কার্যক্রমের কারণে তাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। তারা কেউ তার সাথে নেই বলেও জানা গেছে।

অনেকের মতে, এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে তার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কে ফাটল ধরেছে। পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকজন আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বও ধীরে ধীরে তার থেকে দূরত্ব তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। 

এছাড়া, তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু অনুসারীর মধ্যেও ভাঙনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যদিও এখনও কয়েকজন ব্যক্তি তার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে, তবুও সামগ্রিকভাবে তিনি অনেক ক্ষেত্রেই এককভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

সমাজ বিশ্লেষকরা বলছে, ধর্ম কখনোই ব্যক্তিগত লাভের হাতিয়ার/মাধ্যম হতে পারে না। যে ব্যক্তি ধর্মের কথা বলে কিন্তু সেই ধর্মের নৈতিকতা ও সততাকে নিজের জীবনে ধারণ করে না, সে প্রকৃতপক্ষে সমাজকে বিভ্রান্ত করে। ধর্মের নামে প্রতারণা শুধু সামাজিক অপরাধই নয়, এটি মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা।

সমাজের সচেতন মানুষের দায়িত্ব হলো—ধর্মকে সম্মান করা, কিন্তু ধর্মের নামে ভণ্ডামির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অন্ধ অনুসরণ না করে সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে বিষয়গুলো বিচার করা প্রয়োজন।

প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও দায়িত্বশীল মহলের এ বিষয়ে কার্যকর নজরদারিও জরুরি। কারণ ধর্মের পবিত্রতা রক্ষা করা কেবল ধর্মীয় দায়িত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমাজের নৈতিক ভিত্তি অটুট রাখারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ধর্ম মানুষের মুক্তির পথ, ব্যবসার পণ্য নয়। ধর্মের মর্যাদা রক্ষার জন্য সমাজকে আজই সচেতন হতে হবে। বাস্তব কথা হচ্ছে, ধর্ম কখনো ব্যবসা নয়। ধর্ম মানুষের কল্যাণের জন্য। ধর্মের নামে প্রতারণা সবচেয়ে বড় ভণ্ডামি। আজ সময় এসেছে মানুষকে সচেতন হওয়ার। কারণ সত্যিকারের ধর্ম মানুষকে মুক্তি দেয়, আর ভণ্ডামি মানুষকে অন্ধ করে।

স্থানীয়রা বলছে, অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, কিছু অসাধু ব্যক্তি আজ ধর্মের পবিত্রতাকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। চতুর মিলন কখনো কখনো ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে, কখনো নিজের পিঠ বাঁচানো ও সুবিধা নেওয়ার জন্য ভিন্ন ভিন্ন দলে ভেরা আবার বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করে। মিলন বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত মহিলা মাদ্রাসার নামে তার আত্নীয়-স্বজন, প্রতিবেশি, বন্ধু-বান্ধবসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, দেশি-বিদেশী বাঙ্গালী বন্ধু ও হিতাকাংখী ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। এসব কার্যক্রমের আড়ালে তিনি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে। অনেকেই মনে করছেন, ধর্মকে ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ধর্মের কথা শুনে মানুষ ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস থেকে এগিয়ে আসে, কিন্তু পরে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন—এসব আয়োজনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?

সচেতন মহল বলছে, সমাজে ধর্ম মানুষের নৈতিকতা, সততা এবং মানবিকতার ভিত্তি গড়ে তোলে।  ধর্ম মানুষের নৈতিকতা ও শান্তির পথ দেখানোর জন্য, কিন্তু কেউ যদি এটিকে ব্যক্তিগত স্বার্থের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তাহলে তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। তাই এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে মাদ্রাসায় স্বচ্ছ ও শক্তিশালী কমিটি এবং মাদ্রাসার তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিয়মিত নিরীক্ষার সু-ব্যবস্থাসহ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নজরদারি বাড়ানোর নিরব দাবি উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা সমাজে নতুন নয়। তবে আধুনিক সময়ে এটি অনেক বেশি আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই এই প্রবণতার সমালোচনা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে সচেতনতা ও আইনি পদক্ষেপ জরুরি।

ধর্মীয় শিক্ষাবিদদের মতে, প্রকৃত ধর্ম মানুষকে বিনয়ী, সৎ এবং ন্যায়পরায়ণ হতে শেখায়। সেখানে প্রতারণা, ভণ্ডামি বা ব্যক্তিগত লাভের জন্য ধর্ম ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই।

মুফতি মাহমুদুল হাসান ওরফে মিলনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিটিবি নিউজকে জানান, পড়ালেখার শেষের দিকে এবং ছাত্র থাকা অবস্থায় টিউশনি করতাম। তাছাড়া বগুড়াতে একটি প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার টাকা বেতনে ৩ বছর এবং নওগাঁর পয়না মহিলা মাদ্রাসাতে শুরুতে ৮  হাজার টাকা এবং শেষের দিকে ১০ হাজার টাকা বেতনে মোট ৩ বছর চাকুরি করেছি। তাছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ইমামতিতে টাকা পেতাম। এই সকল টাকা, বাবার জমি বিক্রির টাকা, ফসলের টাকা দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য থাকা বাবা ও মা’কে বহুটাকা দিয়ে চিকিৎসা করানো, আমার মাদ্রাসার ১১ কাঠা জমি ক্রয় ও ১কাঠা জমি একই মালিকের কাছ থেকে দান নিয়ে মাদ্রাসা নির্মাণ এবং পর্যায়ক্রমে ২০টি গরুর খামার করেছি। আর গরুগুলো থেকে অনেক দুধও হতো। সেগুলো বিক্রি করে অনেক টাকা পেয়েছি। প্রায় সবগরুগুলোর প্রতিটি গরু ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা দিয়ে বিক্রি করেছি। সেই সাথে শেষ দিকে সৌদি আবরের একটি সংস্থা থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা নিয়ে মাদ্রাসার বিভিন্ন ধরণের কাজ করেছি বলেও মিলন বিটিবি নিউজকে জানান। এছাড়া নিজের ও স্ত্রীর আত্নীয় স্বজন ও তাদের নিকটতমদের কাছ থেকে এবং আমার বিদেশি এক বন্ধুসহ পরিচিত কয়েকজনের কাছ থেকে কিছু টাকা উত্তোলন করেছি মাদ্রাসার কাজে লাগানোর জন্য। অন্য প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিন্ডার গার্টেনে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী এবং মহিলা মাদ্রাসায় ১০০ ছাত্রী আছে। তাদের মধ্যে ৪/৫ এতিম আছে। সর্বনিম্ন ৪/৫জনে ৫শত টাকা করে দেয় এবং বাকিদের নিকট থেকে পর্যায়ক্রমে সর্বচ্চো ১৫শত টাকা করে নেয়া হয়। এতে করে গড়ে প্রতিষ্ঠানে প্রায় প্রতিমাসে ১ লাখ  টাকা আদায় হয়। এতি শিক্ষকদের বেতন বাবদ ৪০-৫০ হাজার টাকা ব্যায় হয় এবং আবাসিকে খাওয়া বাবদ আরো প্রায় মাস ভেদে ৭০/৮০/৯০ হাজার আবার কখনো কখনো আরো বেশি টাকাও খরচ হয় বলে তিনি জানান। এতে করে তার ঘাটতিই বেশি থাকে বলেও তিনি জানান। আর ঐ ঘাটতি তার নিজ থেকেও কখনো কখনো মেটানো হয় বলেও তার দাবী।

মিলন আরো বলেন, সে সময় শ্বশুড় বাড়ি এলাকায় জমি কট নিয়ে জমিতে ফলস করা কালীন সময়ে প্রায় দেড়শ থেকে দু’শ মণ ধান পেতাম। জমি কট নেয়া তো হারাম। আর সেখান থেকে উৎপাদিত ফসলও তো হারাম।  তিনি একজন মুফতি হয়ে কিভাবে হারাম সম্পদ ভোগ করে এবং অন্যদের ভোগ করায় এ নিয়েও আলেম সমাজে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

জমি কটের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ আলেমদের মত, জমি বন্ধক রাখার যে পদ্ধতি আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে সেটা হারাম। যেমন বন্ধকদাতা বন্ধক গ্রহীতার নিকট থেকে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা গ্রহণ করে আর বন্ধকগ্রহীতা জমি ভোগ করতে থাকে। যখন টাকা ফিরিয়ে দেয় তখন জমি হস্তান্তর করে। এটাকে কোথাও কোথাও কট রাখাও বলা হয়। এই পদ্ধতিতে সুদ রয়েছে। যেটা পুরোপুরি হারাম। আর এই সুদকে হালাল করার কোনো বৈধতা নেই। (প্রয়োজনে আরো বিস্তারিত জানতে এই লিংকটি দেখুন https://muslimbangla.com/masail/12358/undefined). মাহমুদুল হাসান ওরফে মিলন একজন মুফতি হয়ে জেনে শুনে কিভাবে এই হারম পথ অবলম্বন করে। সে নিজেই যদি এই হারাম পথে অবিচল থাকে তাহলে তার শিক্ষার্থী-অভিভাবক, তার পরিচিতরা, আত্নীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, তার মসজিদের মুসল্লিসহ ধর্মপ্রাণ মানুষদের কোন পথে নিয়ে যাচ্ছে। আর তার ভক্তকুল/অনুসারী/পীর-মুরিদেরা কোন পথে যাচ্ছে! আমাদের উচিত আবেগ নয়, সচেতনতা ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সত্যকে গ্রহণ করা এবং নির্ভরযোগ্য আলেমদের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করা।

স্থানীয় প্রতিবেশিরা বলছে, মিলনকে জমি কট নিয়ে উৎপাদিত এতো ধান কোন দিন তার বাড়ি/মাদ্রাসায় আনতে দেখেননি। তবে তার খামারের গরুর খাবারের জন্য অনেক খড় (খের/পোয়াল) কিনে আনতো।  এ নিয়েও স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের ধারনা, মিলন  এ পর্যন্ত মাদ্রাসাসহ সব মিলে প্রায় ১কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছে। যা  দুই প্রতিষ্ঠানে মোট ৬ বছরে চাকুরি, টিউশনি, ইমামতি আর শ্বশুর বাড়ি এলাকার ফসল দিয়ে আর কতই টাকা হয় তা পাঠকের হিসেবের উপর ছেড়ে দিলাম আপনারাই হিসেবে করুন! আর সেই সাথে তাকে কি বলে ডাকবেন? মুনাফিক, ভন্ড, প্রতারক, মিথ্যুক, হারামখোর, চতুরবাজ, ধর্মব্যবসায়ী, না মুফতি! আর যারা তাফসিরুল কুরআনের মাহফিলসহ ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ করার পথে হাঁটে তাদেরকে কি অমুসলিম বলে? সেটিও জানুন বিশেষজ্ঞ আলেম ওলামাদের নিকট থেকে, এত কিছুর পরও তথাকথিত ‘মুফতি’ মিলনের পরিণতি কী হবে—এ প্রশ্নই এখন মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞ ও সৎ আলেমগণ বলেন, ধর্ম মানুষের আত্মিক উন্নতি, তাওহীদ প্রতিষ্ঠা এবং নৈতিক চরিত্র গঠনের পথ। কিন্তু যখন এই দীনকে ব্যবসা বা ব্যক্তিগত স্বার্থের হাতিয়ার বানানো হয়, তখন তা শুধু ধর্মের মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ণ করে না—বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেয়।

সালাফে সালেহীনদের শিক্ষা আমাদেরকে সতর্ক করে—দ্বীনকে খাঁটি রাখতে হবে, এতে কোনো প্রকার ভণ্ডামি, দুনিয়াবি লোভ বা স্বার্থের মিশ্রণ করা যাবে না। তাই এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেক সচেতন মুসলিমের দায়িত্ব হলো দ্বীনের পবিত্রতা রক্ষায় সচেতন থাকা।

এ ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি—

• সকল দ্বীনি কাজ কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর উপর প্রতিষ্ঠিত কিনা তা যাচাই করা

• দ্বীনের মধ্যে কোনো বিদআত বা নতুন সংযোজন আছে কিনা তা থেকে সতর্ক থাকা

• অন্ধ অনুসরণ পরিহার করে দলীলভিত্তিক আমল করা

• ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আকিদা সালাফদের আকিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা দেখা

• তাওহীদের বিশুদ্ধ শিক্ষা ও শিরক থেকে বাঁচার ব্যাপারে তারা কতটা সচেতন তা যাচাই করা

• সুন্নাহ অনুযায়ী আমলের গুরুত্ব দেওয়া হয় কিনা তা খেয়াল রাখা

• দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, আমানতদারিতা ও জবাবদিহিতা আছে কিনা তা দেখা

• তাদের আয়ের উৎস হালাল কিনা এবং দান-অনুদান সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা

• শুধু সনদ নয়, ইলম ও আমলের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা

• কথা ও কাজের মিল আছে কিনা তা খেয়াল রাখা

• সন্তানদের জন্য নিরাপদ, পর্দাশীল ও সুন্নাহসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে কিনা তা দেখা

• নারী-পুরুষের শালীনতা ও শরীয়তের বিধান যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা

• তারা মানুষকে তাওহীদ, সুন্নাহ ও তাকওয়ার দিকে আহ্বান করে কিনা

• বিভেদ, দলাদলি বা ব্যক্তিপূজা তৈরি করছে কিনা তা খেয়াল রাখা

• আলেমদের সম্মান করা হলেও কাউকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে উৎসাহিত করে কিনা তা দেখা

• হালাল-হারাম, ন্যায়-অন্যায়ের বিষয়ে তারা সুস্পষ্ট অবস্থান রাখে কিনা

• সমালোচনা বা প্রশ্নকে সহনশীলতার সাথে গ্রহণ করে কিনা তা যাচাই করা

একইভাবে, দান-অনুদান—হোক তা ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক বা সরকারি-বেসরকারি তা দেওয়ার আগে অবশ্যই ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা জরুরি। কারণ, একটি ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু নিজের উপর নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপরও পড়ে।

মনে রাখতে হবে, একদিন প্রত্যেক মানুষকেই আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে নিজের আমলের হিসাব দিতে হবে। সন্তানদের সঠিক দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া এবং দান-অনুদান সঠিক স্থানে ব্যয় করা—এটি আমাদের আমানত।

ধর্ম মানুষের বিশ্বাসের জায়গা; তাই এই বিশ্বাসকে সম্মান করা যেমন জরুরি, তেমনি ধর্মের নামে ভণ্ডামি, প্রতারণা ও ব্যক্তিস্বার্থের অপব্যবহার থেকে সমাজকে রক্ষা করাও অপরিহার্য। সালাফদের মূল শিক্ষা হলো—দ্বীনে ইখলাস (নিষ্ঠা), ইত্তেবা (অনুসরণ) এবং সততা বজায় রাখা। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো—দ্বীনকে বিশুদ্ধ রাখা, যাচাই-বাছাই করে চলা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সবকিছুর উপরে স্থান দেওয়া। ধর্ম কখনো ব্যবসা নয়—এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ, যা সালাফে সালেহীনরা আমাদেরকে শিখিয়ে গেছেন।

এই লেখার উদ্দেশ্য কারো দোষ প্রচার করা বা কাউকে হেয় করা নয়; বরং যদি কারো মাঝে কোনো ভুল বা বিচ্যুতি থেকে থাকে, তা নসীহত ও উপদেশ হিসেবে গ্রহণ করে সংশোধিত হওয়া এবং কুরআন ও সুন্নাহর সহীহ মানহাজ অনুযায়ী জীবন গড়তে সবাইকে দূর থেকে ব-হু দূ-রে এগিয়ে যেতে হবে!

মহান আল্লাহ! সবাইকে হেদায়েত করুন, সহীহ বুঝ দান করুন, আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদেরকে দয়া করুন, আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমাদের হালাল রিজিক দিন এবং আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। মহান আল্লাহকে সর্বাবস্থায় ভয় করি, তাঁর ও রাসূলের বাণী মেনে চলি। আমাদের পরকালের মুক্তির পথ সহজ করুন। আল্লাহ হউন আমাদের সহায় -আমীন।

চলবে ....................




নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال