ফলোআপ প্রতিবেদন পর্ব ১১
ব্যক্তিগত-ওয়াকফ জমিতে নির্মাণ ও দানের অর্থ যাচাইয়ে আইনি পদক্ষেপের দাবি
দেশি-বিদেশি দান ও ব্যক্তিগত অর্থে বাড়ি-মাদ্রাসা নির্মাণ ঘিরে প্রশ্ন!
মো. আব্দুল বারি খান: নওগাঁ মান্দার কুলিহার কাচারী পাড়া এলাকার হামিয়াতুস সুন্নাহ আদর্শ বালিকা কওমি নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে অনিয়ম ও অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যক্তিগত তহবিলের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি দান-অনুদানে বাড়ি ও মাদ্রাসা নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের পাশাপাশি সচেতন মহল, ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেম-ওলামাদের মধ্যেও নতুন করে আলোচনা, উদ্বেগ, কৌতূহল ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
একটি সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদুল হাসান ওরফে মিলন বগুড়া ও নওগাঁর একটি মাদ্রাসায় কর্মরত থাকার পর নিজ এলাকায় ১১ কাঠা জমি ক্রয় এবং ১ কাঠা ওয়াকফ জমি নিয়ে একটি অংশে ২০২০ সালে একই ছাদের নিচে আবাসিক মাদ্রাসা ও ভবন নির্মাণ শুরু করেন।
স্থানীয়দের ধারণা, নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এ অর্থের মধ্যে ব্যক্তিগত তহবিলের পাশাপাশি স্থানীয়, আঞ্চলিক, দেশি-বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দান-অনুদান রয়েছে। সৌদি আরবভিত্তিক একটি দাতা সংস্থার মোটা অংকের অনুদানও ব্যবহৃত হয়েছে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।
এদিকে নওগাঁর পয়না আদর্শ মহিলা কওমি নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় মহতামিমের দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কাজে অর্থ লেনদেন, ঋণ গ্রহণ এবং আর্থিক দায় সৃষ্টি করেছিলেন বলে প্রতিষ্ঠাতার ছেলে ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা ইসমাইল এ প্রতিবেদককে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে চাকরি ছাড়ার পর ওই দায়ের একটি অংশ আলহাজ আজিজার রহমানের পেনশনের অর্থ ও ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হয়।
ইসমাইলের ধারণা, বিভিন্ন সময়ে মিলনের প্রতিষ্ঠানের কাজে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকা ব্যবহৃত হয়েছে। এ বিষয়ে তার বক্তব্য সংরক্ষিত রয়েছে।
ব্যক্তিগত তহবিলের পাশাপাশি স্থানীয়, আঞ্চলিক, দেশি-বিদেশি ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দান-অনুদানে একই ছাদের নিচে আবাসিক মহিলা মাদ্রাসা নির্মাণকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। অভিযোগ উঠছে—“এতিমখানা”, “মাদ্রাসা”, “লিল্লাহ”, “ওয়াকফ” কিংবা “দ্বীনি শিক্ষা”-র নামে সংগৃহীত দান-অনুদানের অর্থে গড়ে ওঠা একটি স্থাপনা সময়ের ব্যবধানে ধীরে ধীরে পুরোপুরি এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণের ছায়ায় চলে যাচ্ছে কি না।
বিশ্বাস, আস্থা আর সওয়াবের আশায় দেওয়া সাধারণ মানুষের সেই দান কি তবে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে ভিন্ন কোনো ব্যবস্থাপনার ভেতরে হারিয়ে যাচ্ছে—এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা সংশয়, উদ্বেগ ও বিতর্ক।
“মাদ্রাসার নামে” হাত বদল হওয়া দানের ভবিষ্যৎ এখন ঘিরে ফেলেছে প্রশ্নের ছায়া। বিশ্বাসের ওপর দাঁড়ানো দান কি তবে ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে? দ্বীনি শিক্ষার নামে গড়ে ওঠা স্থাপনায় দানের অর্থের প্রকৃত ব্যবহার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। সাধারণ মানুষের আস্থায় দেওয়া দান কি ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে?
“মাদ্রাসার জন্য” বলা অর্থ কি শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনার গণ্ডিতে আটকে যাচ্ছে? দানের টাকায় গড়া স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান—নিয়ন্ত্রণে কার হাত, উঠছে সেই প্রশ্ন। জনসাধারণের বিশ্বাসে গড়ে ওঠা স্থাপনা কি ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত ক্ষমতার কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে?
সওয়াবের আশায় দেওয়া দান কি অজান্তেই ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনার ছায়ায় চলে যাচ্ছে? স্বচ্ছতার অভাবে দানের অর্থ ব্যবহারের প্রকৃত চিত্র কি আড়ালেই থেকে যাচ্ছে? “মাদ্রাসার উন্নয়নে” দেওয়া অর্থ কি শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণের গণ্ডি পেরোতে পারছে না?
হামিয়াতুস সুন্নাহ আদর্শ বালিকা কওমি নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দানের অর্থে নির্মিত ভবন পরবর্তীতে ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দলিল বা ওয়াকফনামায় কি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে কোন অংশ মাদ্রাসার, কোন অংশ ব্যক্তিগত আবাসিক ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত? একই ভবনের ভেতরে শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যক্তিগত বসবাসের সীমারেখা কতটা সুস্পষ্ট?
স্থানীয় পর্যায়ে আরও প্রশ্ন উঠছে—ব্যক্তিগত অংশের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় কে বহন করছে? ওয়াকফকৃত অংশের খরচ কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে? দানের অর্থ কি শুধুমাত্র মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যবহৃত হচ্ছে, নাকি তার একটি অংশ ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ব্যবহারে চলে যাচ্ছে?
এছাড়া দানের টাকায় নির্মিত অংশ কতটুকু এবং ব্যক্তিগত অর্থে নির্মিত অংশ কতটুকু—এ বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ হিসাব বা দলিল রয়েছে কি না, সেটিও এখন প্রশ্নের মুখে। বিদ্যুৎসহ চলমান খরচ কোন খাত থেকে পরিশোধ করা হয়—মাদ্রাসা, ওয়াকফ নাকি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে—এ বিষয়েও স্পষ্টতার অভাব রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ওয়াকফ বা দানের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে লিখিত পরিচালনা কাঠামো, স্বচ্ছ হিসাব ব্যবস্থা, নিয়মিত অডিট, সম্পদের প্রকৃতি ও মালিকানা স্পষ্ট নির্ধারণ এবং নিবন্ধিত ও কার্যকর পরিচালনা কমিটির স্পষ্টতা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন অনুপস্থিত বলেও দাবি উঠছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যক্তিগত জমিতে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা আইনগত বা শরিয়াহগতভাবে নিষিদ্ধ নয়। তবে প্রশ্ন ওঠে তখন, যখন একই ভবনের একাংশে মাদ্রাসা পরিচালিত হলেও অপর অংশ ব্যক্তিগত আবাসিক ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়, অথচ কোন অংশ মাদ্রাসা, কোন অংশ ব্যক্তিগত আবাসিক, কোন অংশ ওয়াকফকৃত সম্পত্তি এবং কোন অংশ ব্যক্তিগত সম্পত্তি—এসব বিষয়ে স্পষ্ট কোনো লিখিত ব্যাখ্যা বা স্বচ্ছ হিসাব সামনে আসে না।
সব মিলিয়ে স্থানীয়সহ বিভিন্ন মহলে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—‘মাদ্রাসার নামে’ গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান কি সত্যিই স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আমানতের নীতির ওপর পরিচালিত হচ্ছে, নাকি সময়ের ব্যবধানে তা ধীরে ধীরে এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ, গোপন ব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অদৃশ্য বলয়ে আটকে যাচ্ছে? মানুষের ঈমান, আবেগ ও সওয়াবের আশায় দেওয়া দান কি শেষ পর্যন্ত প্রকৃত উদ্দেশ্য হারিয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের ছায়াতেই বন্দি হয়ে পড়ছে—এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়সহ বিভিন্ন মহলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানে কার্যকর ও স্বচ্ছ পরিচালনা কমিটি নেই; বরং একটি ‘ছায়া কমিটি’ ও নিকট আত্মীয়কেন্দ্রিক বলয়ের মাধ্যমেই অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে দানের অর্থের উৎস, ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ তৈরি হয়েছে। অনেকের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে সীমিত ব্যক্তিবলয় ও পারিবারিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আটকে পড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, জমি ব্যক্তির নামে হলেও ভবন নির্মাণে ব্যক্তিগত তহবিলের পাশাপাশি দান-অনুদানের অর্থও ব্যবহৃত হয়েছে। তবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যক্তি ও তার নিকট আত্মীয়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক সময় নিজ এলাকার শিক্ষানুরাগী, প্রতিবেশী ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব—যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মনছুর মাষ্টার, ইসমাইল মাষ্টারসহ রিয়াজ, ফয়েজ, বাবুল হোসেন, মাওলানা আতোয়ার, আব্দুল খালেক, হাফেজ আব্দুল মান্নান, আবুল কালাম আজাদ, মোশাররফ, ওয়ারেছ, বায়েজিদ, কায়েশ, মিঠু, আব্দুল মান্নান, তোতা, মাহমুদুলসহ এবং উপজেলার আলেমদের মধ্যে পরিচিত মুখ মাওলানা রিয়াজুল হক কাসেমী, আমিনুল ইসলাম এবং আতাউর রহমানসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি ও সমাজসেবীরা মিলনের শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেছেন।
অন্যদিকে সিংগীহাট মৎস্যজীবী পাড়ার মৌলভী ইসরাফিল আলম, ইলশাগাড়ীর এইচ এম মনিরুল ইসলাম ওরফে মনির, কনাইপাড়ার হাফিজুর, চকভবানীর মাহমুদুল, বাঙ্গালপাড়ার আব্দুল বারি, মৈনমের আজিজুল, নুরুল্লাবাদের নজরুল ইসলাম, কলেজ মোড়সংলগ্ন এলাকার আমিনুল ইসলাম, গোটগাড়ীর আবদুল মজিদ, নিজকুলিহারের মাহফুজ খান, নাঈমসহ আরও কয়েকজন স্থানীয়ভাবে তার অনুসারী বা ছাত্র হিসেবে পরিচিত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মিলনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বাইরে থেকে তার শিক্ষা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও জানা গেছে। তবে তাদের মধ্যে কারও কারও বিরুদ্ধে পূর্বে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং এসব ঘটনায় কেউ কেউ আইনগত প্রক্রিয়ায় আটক বা হাজতবাস করেছেন বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের মতে, এসব অনুসারীর আচরণ ও কর্মকাণ্ডে কিছুটা মিল থাকায় তাদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
উপজেলার পরিচিত অনেক আলেম ও উলামাদের মধ্যে মাওলানা রিয়াজুল কাসেমী, মাওলানা আমিনুল ইসলাম ও আতাউর রহমানসহ কয়েকজন অতীতে ভালো উদ্দেশ্যে মিলনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে তার বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও একক এবং একগুয়েমী সিদ্ধান্তের কারণে ধীরে ধীরে তারা তার কাছ থেকে সরে আসেন বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে।
মিলন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার শুরুতে স্থানীয় কয়েকজন আলেম-ওলামা, বিশেষ করে মাওলানা রিয়াজুল কাসেমী, মাওলানা আমিনুল ইসলাম ও আতাউর রহমানসহ অনেকে পরামর্শ দিয়েছিলেন—দান-অনুদাননির্ভর প্রতিষ্ঠান হলে তা ওয়াকফভুক্ত করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে মালিকানা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে।
স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে একই ছাদের নিচে বাড়ি ও মাদ্রাসা নির্মাণের ফলে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসী ও একাংশ আলেম-ওলামার মতে, ব্যক্তিগত মালিকানার জমি, দান-অনুদান ও ব্যক্তিগত তহবিল একত্রে ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে বন্ধ হয়ে গেলে বা প্রতিষ্ঠাতার অনুপস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ঈমান, আস্থা ও সওয়াবের আশায় দেওয়া দান-অনুদান এবং সম্পদের দায়িত্ব ও পরিণতি কী হবে—সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই। বিষয়টি ঘিরে স্থানীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ে বাড়ছে উদ্বেগ, সংশয় ও নীরব অস্বস্তি।
সচেতন মহল মনে করেন, দান-অনুদান, ব্যক্তিগত তহবিল, ব্যাংক হিসাব এবং বিকাশ, নগদ, রকেটসহ মোবাইল ফিনান্সিয়াল সেবার মাধ্যমে হওয়া লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে। তাদের মতে, এমন উদ্যোগ চলমান আলোচনা, সন্দেহ ও বিভ্রান্তি নিরসনে সহায়ক হবে।
মাহমুদুল হাসান ওরফে মিলন জানান, তিনি চাকরি, টিউশনি, ইমামতি, ফসল উৎপাদন, ব্যবসা, গরুর খামার এবং একটি বিদেশি সংস্থার ১৫ লাখ টাকার অনুদানসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে মাদ্রাসা ও অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করেছেন। ১১ কাঠা জমি ক্রয় এবং ১ কাঠা ওয়াকফ/দান জমির ভিত্তিতে ধাপে ধাপে নির্মাণ কাজ এগিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের মতে, স্বল্প সময়ে সম্পদ বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও প্রশ্ন রয়েছে। অনেকে বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে স্থানীয়সহ বিভিন্ন মহলে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—উঠে আসা অভিযোগ, আলোচনা ও বিতর্কের প্রকৃত সত্য কতটা এবং এর নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা কবে সামনে আসবে। বিষয়টি ঘিরে বাড়ছে কৌতূহল, উদ্বেগ ও জনমতের চাপ।
এদিকে সামাজিকভাবে আলোচিত অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে বিটিবি নিউজ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আহ্বান জানায়—যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের বক্তব্যের সমর্থনে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য, প্রামাণ্য দলিল, অডিও, ভিডিও বা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে চান, তবে তা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে পরবর্তী প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে-ইন শা আল্লাহ।
👉 সামনে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—চোখ রাখুন ধারাবাহিক অনুসন্ধানের পরবর্তী পর্বগুলোতে!
